মার্কিন প্রতিবেদন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার খড়গ

0

ডেস্ক রিপোর্ট।। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সরকার প্রায়ই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নেতাদের এই অভিযোগ স্থান পেয়েছে ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অধ্যায়ে

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন গতকাল বুধবার (২৬ জুন) রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, প্রায় সব ক্ষেত্রেই ফেসবুকে কথিত অবমাননাকর বিষয়বস্তু পোস্ট করার জন্য আদালত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে সমর্থন করা হয়েছে এটি ধর্মীয় বৈষম্যকে নিষিদ্ধ এবং সব ধর্মের জন্য সমতার ব্যবস্থা করে পারিবারিক আইনে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য আলাদা বিধান রয়েছে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর মার্চে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পর আইন প্রয়োগকারী এবং সরকারি কর্মকর্তারা তাদের পাশে দাঁড়ান

সহিংসতায় দুজন নিহত বেশ কয়েকজন আহত হন পরে পুলিশ সহিংসতার কথিত উসকানিদাতাসহ কয়েক হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে সে সময় ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়

মুসলমান নেতাদের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সরকার ইমাম নিয়োগ অপসারণকে প্রভাবিত করে চলেছে এবং সারা দেশে ইমামদের খুতবার বিষয়বস্তু সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করছে

গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ অর্পিত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, অতীতের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে অনশনের ঘোষণা দেয় তারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালেরও দাবি জানায়

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা আহমদিয়া সম্প্রদায় এবং অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে