দিনাজপুরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৬,আহত ২৮

2

রতন সিং দিনাজপুর থেকে।। ০৫ জুলাই।। দিনাজপুর সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী নাবিল পরিবহন ও আম বোঝাই  ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২জন শিশুসহ ৬জন নিহত হয়েছে । এছাড়াও ২৮জন গুরুতর আহত হয়ে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শুক্রবার ( ৫জুলাই) সকাল ৬টায় দিনাজপুর সদর উপজেলার ৫নং শশরা ইউনিয়নের পাঁচবাড়ী বাজার সংলগ্ন বলরামপুর(দইসই) এলাকায় আরিয়ান পেট্রোল পাম্পের পশ্চিমে দিনাজপুর ফুলবাড়ি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ বদতালীগাঁও এলাকার দানেশ আলীর ছেলে মো. আলী (৫২), যাত্রীবাহী নাবিল কোচের সুপার ভাইজার বোচাগঞ্জ মিলরোড এলাকার মৃত লক্ষণ বাহাদুরের ছেলে রাজেশ বাহাদুর (৩৫), ট্রাক চালক ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ মিত্রপাঠ এলাকার মৃত সুরার ছেলে হাসু (২৮),বোচাগঞ্জ আনোয়ারা এলাকার জাহিদ ও সুলতানা পারভীনের কন্যা শিশু বিভা (১০),চিরিরবন্দর আমবাড়ি বিশ্বনাথপুর এলাকার বিমল চন্দ্র রায়ের ছেলে ভ্যানচালক সদেশ রায়  (৩০)।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায় দিনাজপুর সদর উপজেলার পাঁচবাড়ী চকরামপুর আরিয়ান পেট্রোলপাম্পের পশ্চিমে ঢাকাগামী আম বোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট ১৭-০০৮৩) তার রাস্তার সাইড পরিবর্তন করে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈল গামী যাত্রীবাহী বাস নাবিল পরিবহনকে  (ঢাকা মেট্রো ট-১৪-৪১৯০) সামনাসামনি ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চালক ও বাসের হেলপার মারা যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন শিশু ,বাসের সুপারভইজার ও যাত্রীসহ মোট ছয়জন মারা যায় এবং ২৮জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এ ঘটনার পরপরেই দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ ও পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমদ এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে যান এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য পরিবারদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন ।

এ সময় জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ  ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ও আহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ’ র পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সার্বিক সহোযোগিতা করা হচ্ছে এবং হবে। এর পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে তিনি জানান। পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা যেটা জানতে পেরেছি  ট্রাকের হেলপার ট্রাক চালাচ্ছিল এবং ড্রাইভার পাশে বসে ছিল। এর পাশাপাশি চলন্ত অবস্থায় বাস চালকের সঙ্গে বাসের এক যাত্রীর কথা কাটাকাটি চলছিল, এর ফলে চালক কিছুটা অমনোযোগী ছিল। প্রথমে ট্রাকটি একটি ভ্যানচালককে ধাক্কা দিয়ে রোড লেন ক্রস করে নাবিল বাসের সামনে চলে আসে। ফলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারালে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে । সব মিলিয়ে তদন্ত  অব্যাহত ও ট্রাকের হেলপার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশি হেফাজত রয়েছে এবং সড়ক আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে পুলিশ সুপার জানান।

আহত বাসের এক যাত্রী জানান, নাবিল গাড়িটি ৮০থেকে ৮৫ কিমি বেগে চলছিল এর মধ্যে আবার চলন্ত অবস্থায় বাসের ড্রাইভারের সাথে এক যাত্রীর ঝগড়া চলছিল। আর এরই  মধ্যে একটি ট্রাক তার সাইড পরিবর্তন করে আমাদের গাড়ির হঠাৎ  সামনাসামনি চলে এলে ড্রাইভার অনেক চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ছোট বাচ্চাসহ বাসে অনেক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে এবং ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার এবং ট্রাকের চালক মারা গেছে।  আমি মাথায় আঘাত পেয়েছি এবং জানালা দিয়ে বের হবার চেষ্টা করলে পায়ে আঘাত পাই। কারণ বাসের সামনেটা দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ায় বের হওয়া যাচ্ছিল না। পরে স্থানীয় লোকজন মই এনে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে বাসে আটকে পরা যাত্রীদের উদ্ধার করে। কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ হোসেন বলেন, রেকারের মাধ্যমে রাস্তা থেকে বাসটি পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে এবং ট্রাকটি আরিয়ান পেট্রোল পাম্পের পাশে রাখা রয়েছে। বর্তমানে রাস্তার যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।