একমাত্র ভারতই ব্যতিক্রম, মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার পর ভারতীয় সৈন্য দেশে ফিরে গেছে : শেখ হাসিনা

1

ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর বিরোধীরা হামলে পড়েছিল তিস্তা নিয়ে নিযে ব্যর্থ হয়েছেন, গঙ্গা নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই, ট্রানজিট সুবিধা দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন ইত্যাদি মোক্ষম জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (২৫ জুন) সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা এই দেশকে বিক্রি করে না আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি, এটা মনে রাখা উচিতএকটা দেশের মধ্যে অন্য দেশের ট্রানজিট দিলে কোনো ক্ষতি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন

ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয় গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত ভাষণ দেন শেখ হাসিনা পরে শুরু হয় সাংবাদিকদের প্রশ্নপর্ব

প্রথমেই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের রেল চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন আসে দেশকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে সামাজিক বিরোধীদের সমালোচনা বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনার প্রসঙ্গও ছিল প্রশ্নটিতে এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার একটা প্রশ্ন আছে, ওজনটা কিসে মাপছে? ওজন মাপা হচ্ছে কীভাবে? আগে তো পাল্লায় হতো, এখন মেশিনে মাপা হয় এখন তাহলে কীভাবে বিক্রি হবে ?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ আমরা স্বাধীন করেছি যারা সমালোচনা করে, তাদের জানা উচিত, একটি মাত্র মিত্রশক্তি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ স্বাধীনে সহযোগিতা করেছে পৃথিবীতে যারা মিত্রশক্তি, যারা যুদ্ধে সহযোগিতা করে, তারা কিন্তু ওই দেশ ছেড়ে যায়নি এখনো জাপানে আমেরিকান সৈন্য, জার্মানিতে রাশিয়ান সৈন্য আছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘এখানে ভারত কিন্তু ব্যতিক্রম তারা মিত্রশক্তি হিসেবে আমাদের পাশে থেকে যুদ্ধ করে এসেছে কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখনই চেয়েছেন, তারা (ভারতের সৈন্য) দেশে ফেরত যাকভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছেন এবং তাদের ফেরত নিয়ে গেছেন

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরপরও যারা কথা বলে, ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে, তারা কথা বলে কীভাবে ? আসলে যারা কথা বলে, তারা নিজেরাই ভারতের কাছে বিক্রি হওয়া কারণ আমরা দেখেছি, যখনই মিলিটারি ডিক্টেটররা (সামরিক স্বৈরাচার) এসেছে, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ওপর দিয়ে ভারতবিরোধী কথা বলেছে, আর ভারতের পা ধরে বসে থেকেছে এগুলো আমার নিজের দেখা, জানা

একটা দেশের মধ্যে অন্য দেশের ট্রানজিট দিলে ক্ষতি কী বলে প্রশ্ন রাখেন শেখ হাসিনা তিনি বলেন, রেল যেগুলো বন্ধ ছিল (ভারতের সঙ্গে), সেগুলো আস্তে আস্তে খুলে দিচ্ছি অর্থনীতিতে এটা বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে আমরা বাংলাদেশে কি চারদিকে দরজা বন্ধ করে থাকব? ইউরোপের দিকে তাকান, সেখানে কোনো বর্ডার নেই সেখানে কি এক দেশ আরেক দেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে ?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ সমস্ত যোগাযোগব্যবস্থা খুলে দিলাম, এর উপকার পাবে সাধারণ মানুষ ব্যবসাবাণিজ্য ভালো হবে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ২১ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের নয়াদিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা